Header Ads Widget

ঈদুল ফিতরের বিস্তারিত তাৎপর্য: করণীয় ও বর্জনীয় (দলিলসহ)

ঈদুল ফিতরের ছবি, কওমি নিউজ

ইসলামিক ডেস্ক | কওমি নিউজ

​পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক মহিমান্বিত উপহার। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই দিনটি আসে মুমিনদের জন্য পুরস্কার হিসেবে। নিচে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো:

​১. ঈদুল ফিতরের গভীর তাৎপর্য ও পুরস্কার

​ঈদুল ফিতর কেবল উৎসব নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। একে 'লিলাতুল জায়জা' বা পুরস্কারের রাত ও দিন বলা হয়।

​আল্লাহর নির্দেশ ও কৃতজ্ঞতা: আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:

​وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

অর্থ: “যাতে তোমরা (রোজার) সংখ্যা পূর্ণ করো এবং তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)

​গুনাহ মাফের আনন্দ: রাসূলুল্লাহ (সা.) এর হাদিস থেকে জানা যায়, যারা নিষ্ঠার সাথে রোজা রাখে, ঈদের দিন তারা নিষ্পাপ হয়ে ঘরে ফেরে। হাদিসে এসেছে:

​إِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدِ الْفِطْرِ وَقَفَتِ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَبْوَابِ الطُّرُقِ... فَيَقُولُ اللَّهُ: أُشْهِدُكُمْ يَا مَلَائِكَتِي أَنِّي قَدْ جَعَلْتُ ثَوَابَهُمْ مِنْ صِيَامِهِمْ شَهْرَ رَمَضَانَ وَقِيَامِهِمْ رِضَايَ وَمَغْفِرَتِي

অর্থ: “যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে, ফেরেশতারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করতে থাকে... আল্লাহ বলেন: হে ফেরেশতারা! তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি তাদের রমজানের রোজা ও তারাবির বিনিময়ে আমার সন্তুষ্টি ও ক্ষমা দান করলাম।” (তাবারানি: মুজামুল কবির)

​২. ঈদের দিনের সুন্নাহ ও করণীয় (হাওলাসহ)

​ঈদের দিনটি ইবাদতের রঙে রাঙাতে নিচের আমলগুলো দলিলসহ অনুসরণ করা উচিত:

​তাকবির পাঠ করা: ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে (পুরুষদের জন্য) তাকবির বলা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।

​হাওলা: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন। (মুসতাদরাকে হাকেম: ১১০৬)

​সাদাকাতুল ফিতর আদায়: নামাজের আগেই গরিবদের হক আদায় করা।

​فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ

অর্থ: “রাসূলুল্লাহ (সা.) ফিতরা নির্ধারণ করেছেন রোজাদারের অনর্থক কথা ও কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং অভাবীদের খাবারের ব্যবস্থার জন্য।” (আবু দাউদ: ১৬০৯)

​উত্তম পোশাক ও সুগন্ধি: ঈদের দিন সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা পোশাক পরা।

​হাওলা: হযরত হাসান (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ঈদে আমাদের কাছে থাকা সবচেয়ে ভালো পোশাকটি পরি এবং সবচেয়ে ভালো সুগন্ধিটি ব্যবহার করি।” (মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৫৬০)

​৩. ঈদের দিনের বর্জনীয় কাজ ও নিষেধাজ্ঞা

​উৎসবের নামে ইসলাম পরিপন্থী কাজ বর্জন করা ঈমানের দাবি:

​রোজা রাখা নিষিদ্ধ: বছরের ৫টি দিনে রোজা রাখা হারাম, যার মধ্যে দুই ঈদের দিন অন্যতম।

​أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ النَّحْرِ

হাওলা: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯৯১; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮২৭।

​বেহায়াপনা ও গান-বাজনা: পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে রাস্তায় ঘোরাঘুরি বা উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র বাজানো গুনাহের কাজ।

​হাওলা: “আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (সহিহ বুখারি: ৫৫৯০)

​অপচয় ও অহংকার: দামি পোশাক পরে অন্যকে ছোট করা বা অহংকার করা নিষেধ।

​وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا ۞ إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ

অর্থ: “আর তোমরা অপচয় করো না, নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” (সূরা বনি ইসরাইল: ২৬-২৭)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ